আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লিগ্যাল নোটিশ
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে একাধিক নবজাতকের মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দেশের সব হাসপাতালের মা ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালককে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
শুক্রবার (২৯ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ নোটিশ প্রেরণ করেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে একাধিক নবজাতকের মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অভিভাবকদের অভিযোগের বরাতে বলা হয়, গভীর রাতে একাধিক নবজাতক হঠাৎ একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে তীব্র কান্না, বমি, শ্বাসকষ্ট এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখা দেয়। একই সময়ে কয়েকজন প্রসূতি মাও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এমন সংকটময় পরিস্থিতিতেও পর্যাপ্ত জরুরি চিকিৎসা সাড়া, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসা কর্মীদের উপস্থিতি ও তৎপরতায় ঘাটতি ছিল বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সংকটাপন্ন নবজাতকদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরেও বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এর ফলে একের পর এক নবজাতকের মৃত্যু ঘটে, যা সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর পাশাপাশি পুরো জাতিকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
নোটিশে বলা হয়, এ ঘটনা দেশের হাসপাতাল ব্যবস্থায় মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডের নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসা সাড়া, রোগী পর্যবেক্ষণ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার গুরুতর দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।
এ প্রেক্ষিতে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, সব হাসপাতালের মা ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি চিকিৎসা সাড়া ও নিরাপত্তা প্রটোকল নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এসব বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জনসাধারণকে জানাতে হবে।
এসি//