আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘের ‘কালো তালিকায়’ ইসরাইল

যুদ্ধকালীন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইসরাইলকে জাতিসংঘের ‘কালো তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। এমনকি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণাও দিয়েছে তেলআবিব।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার তথ্যমতে, জাতিসংঘের একটি আসন্ন বার্ষিক প্রতিবেদনে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্ত পক্ষগুলোর তালিকায় ইসরায়েলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগেই বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইসরাইল।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানান, তারা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ ইসরাইলের বিরুদ্ধে ভুল ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে। ইসরাইলি প্রতিনিধিদের ভাষ্য, এই প্রতিবেদন তাদের জন্য অপমানজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাদের দাবি, জাতিসংঘ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং ইসরায়েলকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।

তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাসচিবের কার্যালয় এখনো আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে এবং সংলাপের পথ বন্ধ হয়নি।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিম আলসালেম এই সিদ্ধান্তকে যথাযথ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সংঘাত চলাকালে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগগুলো আরও কঠোরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

এর আগেও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি বন্দিদের নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। যদিও ইসরাইল এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, তদন্তকারীদের কারাগার বা আটককেন্দ্র পরিদর্শনের সুযোগ দেয়া হয়নি।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক বাস্তবতা।

পশ্চিম তীরভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের সহিংসতার কারণে অনেক ফিলিস্তিনি নিজেদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কিছু স্বেচ্ছাসেবী কর্মীও আটক অবস্থায় দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।

তবে ইসরাইলি সরকার এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, কিছু প্রতিবেদন বাস্তব পরিস্থিতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর থেকেই জাতিসংঘ ও ইসরাইলের সম্পর্ক ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামাসের হামলার জেরে  ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়তে থাকে।

 

সব মিলিয়ে জাতিসংঘের নতুন এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বৈশ্বিক কূটনীতিতেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন