ঈদের ছুটি শেষে কাজে ফেরায় অনীহা? জেনে নিন কি করবেন
ঈদুল আজহার ছুটি শেষ। কোরবানির গোশত, কোরমা-পোলাও দিয়ে ভূরিভোজ, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, ঘুরতে যাওয়া কিংবা শুধু আরাম করে কাটানোর পর আবার অফিসের ডেস্কে ফিরতে অনেকেরই কষ্ট হয়।
ইনবক্সে জমে থাকা ই-মেইল, অসমাপ্ত কাজ, নতুন মিটিং—সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই মনে হয় যেন চাপের পাহাড়। তবে ছুটির পর কাজে ফেরার সময় এমন সমস্যা স্বাভাবিক। কয়েকটি সহজ কৌশল অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে আবার কাজের ছন্দে ফেরা সহজ হতে পারে।
অফিসে ফিরেই অনেকের মনে হয়, জমে থাকা সব কাজ আজই শেষ করতে হবে।এই চিন্তা থেকেই চাপ বাড়ে। বাস্তবতা হলো, কয়েক দিনের কাজ এক দিনে শেষ করা সম্ভব নয়।তাই ছুটির পর প্রথম দিনেই সব কাজ শেষ করার চাপ না নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো অগ্রাধিকার দিন। ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ শুরু করলে মনোযোগ ফিরে আসতে সহজ হয়। প্রথম দিন সবচেয়ে জরুরি কাজগুলো চিহ্নিত করুন। বাকিগুলো পরবর্তী দিনগুলোর জন্য পরিকল্পনা করে রাখুন।
ডেস্কে বসেই ই-মেইল খুলে বসবেন না। আগে ভাবুন, এই সপ্তাহে কী কী করতে হবে। সেটির একটা তালিকা তৈরি করুন।যেমন- জমে থাকা ই-মেইলগুলো দেখে নিতে পারেন, যে কাজগুলো বেশি জরুরি সেগুলো খুঁজে বের করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ মিটিংগুলো আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে পারেন। মনে রাখবেন,লক্ষ্য স্পষ্ট থাকলে কাজের চাপ তুলনামূলক কম মনে হয়।সব কাজ সব সময় সমান গুরুত্ব বহন করে না। ধরুন কিছু কাজ জরুরি ভিত্তিতে করতে হয় আবার কিছু পরে করলেও চলে। তাই কাজের তালিকা তৈরি করে কাজের গুরুত্ব বুঝে সাজিয়ে নিন। তবে চেষ্টা করুন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে শেষ করার।
ছুটিতে ঈদ কেমন কাটালেন কোথায় ঘুরতে গিয়েছিলেন এসব খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প করতে পারেন। এছাড়া ছুটিতে থাকার সময় অফিসে কী কী হয়েছে, তা জানার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা। ছোট আলোচনা অনেক সময় অসংখ্য ই-মেইল পড়ার চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে। এতে নতুন কোনো অগ্রাধিকার তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও জানা যায়।
যদি সম্ভব হয় প্রথম দিনের সকালটা নিজের জন্য রাখুন। জোর করে কোনো কাজ শুরু করবেন না।হালকা কাজ দিয়ে শুরু করুন, নিজেকে সময় দিন।মনের ওপর জোর না করে সময় নিয়ে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরুন। এই সময়টুকু কাজে ফিরতে, ই-মেইল গোছাতে এবং দিনের পরিকল্পনা করতে ব্যবহার করুন। অফিসে ফিরেই একের পর এক মিটিং থাকলে চাপ আরও বাড়তে পারে।
একটানা কাজ না করে নির্দিষ্ট সময় পরপর ছোট বিরতি নিন।একটু পরপর ই-মেইল, ফোনকল, মিটিং আর অন্য কাজের মধ্যে বারবার যাওয়া-আসা করলে মনোযোগ নষ্ট হয়।তাই নির্দিষ্ট সময় ধরে শুধু ই-মেইল, তারপর মিটিং, এরপর অন্য কাজ এভাবে ভাগ করে কাজ মানসিক চাপ কমে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
ছুটির পর কাজে ফেরার মানে এই নয় যে নিজের যত্ন নেওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। ঈদের ছুটিতে অনেকের ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যায়। নিয়মিত সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীর ও মস্তিষ্ককে দ্রুত কর্মক্ষম করে তুলতে সাহায্য করে। সকালের হাঁটা, ব্যায়াম, প্রার্থনা, ধ্যান বা এক কাপ চায়ের অভ্যাস আপনাকে ভালো রাখে, সেটি ধরে রাখার চেষ্টা করুন। মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে এসব ছোট অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ছুটির আরাম থেকে সরাসরি পূর্ণগতির কর্মজীবনে ফিরে আসা সহজ নয়। তাই প্রথম দিনেই আগের মতো শতভাগ ছন্দে ফিরতে না পারলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ধীরে ধীরে কাজের গতি বাড়ান। কয়েক দিনের মধ্যেই আবার পুরোনো রুটিনে ফিরে আসবেন।
মনে রাখবেন, ছুটির উদ্দেশ্যই হলো বিশ্রাম নেওয়া এবং নতুন উদ্যমে কাজে ফেরা। তাই ঈদের সুন্দর সময় কাটানোর জন্য অপরাধবোধ নয়, বরং সেই শক্তিটুকু নিয়েই কাজে ফিরুন। জমে থাকা কাজ একসময় শেষ হবে, কিন্তু ভালোভাবে কাটানো ছুটির স্মৃতি আপনাকে দীর্ঘদিন শক্তি জোগাবে।
পিডি