শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড
আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন বাবা
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার বাদী ও নিহত রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিকে মামলার প্রধান দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়। সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে এনে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর তাদের আদালতে তোলা হয়।
এর আগে গত সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন এবং একই দিনে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন।
মামলার নথিপত্র ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাক্ষ্যগ্রহণের এই পর্যায়ে আজ ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যায়। পরে স্কুলে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খুঁজতে গিয়ে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। কোনো সাড়া না পেয়ে ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে সোহেল ও স্বপ্না আক্তারের শোবার ঘরে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতিতে তার মাথা দেখতে পান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্বপ্না আক্তার।
ওই দিনই শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এ ছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।
এসি//