দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে ৩ জনের মৃত্যু, সিসিটিভিতে পাওয়া গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য
ভারতের রাজধানী দিল্লির তুঘলকাবাদে আবাসিক ভবনে আগুন লেগে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনাকে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং ব্যক্তিগত ও আর্থিক বিরোধের জেরে ভবনের নিচে রাখা একটি স্কুটারে আগুন দেওয়া হয়েছিল।
রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গেল শুক্রবার মধ্যরাতে তুঘলকাবাদের একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও কয়েকজন। শুরুতে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর তদন্তকারীরা ভিন্ন তথ্য পান।
এ ঘটনায় নিরঞ্জন, তার ভাই রাজকুমার ও সরিতা নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সরিতা ও ওই কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্ত দুই যুবকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার রাতে ভবনের নিচে পার্ক করা একটি স্কুটারে আগুন দেয় ওই কিশোরী। পরে সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভবনের ওপরের তলাগুলোতে। একপর্যায়ে আগুন পঞ্চম তলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের পর আটজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে পঙ্কজ, সুশীলা দেবী ও সোনিয়া কুমারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে ওই কিশোরীকে ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরে তাকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, সরিতার প্ররোচনায় স্কুটারে আগুন দিয়েছিল।
তদন্তকারীরা জানায়, আগুন দেওয়া স্কুটারটি দীপক নামে এক ব্যক্তির। তিনি নিরঞ্জনের চাচাতো ভাই এবং ওই ভবনের পঞ্চম তলায় থাকতেন। অভিযোগ রয়েছে, আগুন দেওয়ার জন্য কিশোরীকে পেট্রোল ও দেশলাই সরবরাহ করেছিলেন সরিতা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ক্ষতি করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশসহ একাধিক মামলা করা হয়েছে।
এমএ//