কালিমার সম্মানে মাটিতে নামানো হলো না সৌদির পতাকা
মাঠে বল গড়ানোর আগেই শুরু হয় এক নীরব দৃশ্য, যেখানে শুধু খেলা নয়—সম্মান, সংস্কৃতি আর বিশ্বাসও জায়গা করে নেয়। কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে এমন এক মুহূর্ত দেখা গেল, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল আলোচনার ঝড় হয়ে। সৌদি আরব ও উরুগুয়ের ম্যাচের আগে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের সময় ঘটে গেল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা—যা এতদিনের বিশ্বকাপ প্রোটোকলে ছিল প্রায় অদেখা।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত দুটি দেশের পতাকায় আল্লাহর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—সৌদি আরব ও ইরাক। সৌদি আরবের পতাকায় কালেমা তাইয়্যিবা লেখা রয়েছে, আর ইরাকের পতাকায় রয়েছে “আল্লাহু আকবার”।
যদিও ইরাক এখনো মাঠে নামেনি, সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলে ফেলেছে।
উরুগুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে সৌদি আরব ১–১ গোলে ড্র করে। ম্যাচ শুরুর আগে নিয়ম অনুযায়ী দুই দেশের জাতীয় পতাকা মাঠে প্রদর্শন করা হয় এবং এরপর জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। তবে এবার দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র।
সাধারণত জাতীয় সঙ্গীতের সময় পতাকা মাটিতে নামানো হলেও এই ম্যাচে সৌদি আরবের পতাকা মাটিতে নামানো হয়নি। বরং সেটিকে উপরে উত্তোলিত অবস্থায়ই রাখা হয়, যা পুরো আয়োজনের মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে নজর কাড়ে।
একই সঙ্গে যেন কোনো বিতর্ক বা অসামঞ্জস্য তৈরি না হয়, সে কারণে উরুগুয়ের পতাকাও একইভাবে উঁচু অবস্থায় রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।
সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, কালিমাখচিত হওয়ায় দেশটির পতাকাকে কখনো মাটিতে নামানো যাবে না। মূলতঃ ফিফা তাদের এই স্পিরিটকেই সম্মান দেখিয়ে পতাকা না নামিয়ে হাতে উঁচিয়ে রেখেছিল। সৌদি আরবের অনুরোধেই ফিফা এমন সম্মান দেখানো হয়। যার কারণে, বাহবাও পাচ্ছে ফিফা।
অনেকেই বলছেন, এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়—বরং ভিন্ন সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানানোর একটি দৃষ্টান্ত।
এসি//