মেসির সম্মানে আবারও আর্জেন্টিনা-স্পেন ম্যাচের প্রস্তাব
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতেছে স্পেন। দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের এই মহারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ছিল বিশেষ আকর্ষণের। তবে বিশ্বকাপের সেই লড়াইয়ের পর এবার নতুন একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে—লিওনেল মেসির সম্মানে এবং তার সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে আবারও আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আয়োজন।
এ প্রস্তাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত জোয়াকিন মারিয়া ডি আরিস্তেগি।
আর্জেন্টিনার রেডিও মিত্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ওই ম্যাচ দিয়েই কেন মেসিকে একটি বড় বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হবে না?”
তবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়া মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ফলে এমন ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টিও আপাতত আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।

বিশ্বকাপ জয়ের পর স্পেনে ফিরে শিরোপা উদযাপনে অংশ নেন রাষ্ট্রদূত জোয়াকিন মারিয়া ডি আরিস্তেগি। ইয়ামাল, রদ্রি ও তাদের সতীর্থদের অর্জনকে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
তার মতে, পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন যেভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ধারাবাহিক ফুটবল খেলেছে, সেই পারফরম্যান্সই তাদের বিশ্বসেরার আসনে বসিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ শেষে স্পেনে জাতীয় দলের সংবর্ধনাতেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে হাজারো সমর্থকের ভালোবাসায় সিক্ত হন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলাররা।
রাষ্ট্রদূতের মতে, বিশ্বকাপের অন্যতম সৌন্দর্য হলো ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশের সেরা দলগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়া। ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকার শিরোপাধারী, পাশাপাশি তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মতো দুই শক্তির লড়াই ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। ভবিষ্যতে এমন আরেকটি ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়েও কথা বলেন জোয়াকিন মারিয়া ডি আরিস্তেগি।
ছোটবেলা থেকেই বার্সেলোনার সমর্থক হওয়ায় তিনি মনে করেন, মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জিও বুসকেতস, কার্লেস পুয়োল, জেরার্ড পিকে ও জাভির নেতৃত্বে বার্সেলোনার দীর্ঘদিনের আধিপত্য রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের মনে এক ধরনের হতাশা বা আঘাত তৈরি করেছিল। তার মতে, সেই কারণেই অনেক সময় তাদের কাছ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
স্পেন তার জন্মভূমি আর আর্জেন্টিনা কর্মস্থল হওয়ায় পুরো বিশ্বকাপজুড়েই এক ভিন্ন ধরনের আবেগের মধ্যে ছিলেন এই স্প্যানিশ কূটনীতিক।
তিনি জানান, স্পেনের পাশাপাশি নিজের ‘দ্বিতীয় দল’ হিসেবে আর্জেন্টিনার ম্যাচও সমান আগ্রহ নিয়ে দেখেছেন। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যক্তিগত আবেগ সরিয়ে রেখে নিজের দেশের পক্ষেই সমর্থন জানিয়েছেন, কারণ সেই মঞ্চে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ ছিল না।
এসি//