২০৩০ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে
একটি বিশ্বকাপ জয় অনেক কোচের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন। কিন্তু লুইস দে লা ফুয়েন্তের জন্য গল্পটা যেন আরও বড়। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনকে ঐতিহাসিক শিরোপা এনে দেওয়ার পর এবার তাকে আরও দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের ডাগআউটে রাখতে চায় স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।
দে লা ফুয়েন্তের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এরই মধ্যে সেই চুক্তি বাড়িয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ শুরু করেছে। শুধু চুক্তি বাড়ানো নয়, তাকে বিশাল অঙ্কের নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
৬৫ বছর বয়সী এই কোচের অধীনে ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হয়েছে স্পেন। আর সেই সাফল্যের পর দে লা ফুয়েন্তেকে ঘিরে স্প্যানিশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও এখন অনেকটাই পরিষ্কার।
আস্থা রাখছে ফেডারেশন
দে লা ফুয়েন্তের চুক্তি নবায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুজান।
রেডিও নাসিওনাল দে এস্পানিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লুজান দে লা ফুয়েন্তের কাজের ধরন ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। জাতীয় দলের বিভিন্ন পর্যায়ে তার নিবেদন, বিনয়, সাদাসিধে জীবনযাপন এবং নেতৃত্বের গুণই তাকে এই সম্মানের যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন তিনি।
লুজান জানান, ২০২৮ সাল পর্যন্ত দে লা ফুয়েন্তের চুক্তি রয়েছে। তবে এরই মধ্যে সেটি ২০৩০ বিশ্বকাপ কিংবা তার পরের সময় পর্যন্ত বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কারণ, ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় সেই বিশ্বকাপে স্পেনের ডাগআউটে দে লা ফুয়েন্তেকে দেখাটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ফেডারেশন।
স্পেনের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে কোচের কৌশল ও নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রতিভাবান একঝাঁক খেলোয়াড়ের সম্মিলিত অবদানও রয়েছে বলে মনে করেন ফেডারেশন সভাপতি।
লক্ষ্য এখন ২০৩০-এর ফাইনাল
দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পরিকল্পনার পেছনে শুধু বিশ্বকাপ জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যই নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্পেনের আরও বড় একটি স্বপ্ন—২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিজেদের মাটিতে আয়োজন করা।
২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ, অর্থাৎ ফাইনালটি নিজেদের দেশের কোনো স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে চায় স্পেন। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে দেশটি।
এরই মধ্যে পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছে স্পেন। ফলে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
লুজানের মতে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের ফাইনাল স্পেনে অনুষ্ঠিত না হলে সেটি হবে অস্বাভাবিক এক ঘটনা।
সাফল্যের নেপথ্যে দে লা ফুয়েন্তে
দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের ফুটবলে এসেছে সাফল্যের এক নতুন অধ্যায়। তার নেতৃত্বে দল শুধু শিরোপা জেতেনি, বরং নিজেদের ফুটবল দর্শন ও প্রতিভাবান প্রজন্মের ওপর আস্থা রেখেই এগিয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর এখন স্পেনের সামনে নতুন লক্ষ্য—২০৩০ সালের ঘরের বিশ্বকাপ। আর সেই অভিযানের নেতৃত্বে দে লা ফুয়েন্তেকেই রাখতে চায় ফেডারেশন।
ফলে ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকা চুক্তি এখন পরিণত হতে যাচ্ছে আরও দীর্ঘ এক যাত্রায়। সামনে ২০৩০ বিশ্বকাপ, নিজেদের মাটিতে ফাইনাল আয়োজনের স্বপ্ন এবং সেই মঞ্চে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে নামার প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে দে লা ফুয়েন্তের জন্য স্প্যানিশ ফুটবলের পরিকল্পনাটাও যে বড়, সেটি এখন স্পষ্ট।
এসি//