খেলাধুলা

বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডের সেরা একাদশে যারা

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড শেষ হতেই আলোচনায় উঠে এসেছে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা ফুটবলারদের নাম। ম্যাচভিত্তিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডের সেরা একাদশ প্রকাশ করেছে পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটার ফুটবল বিশ্লেষকরা। প্রত্যাশিতভাবেই এই দলে জায়গা পেয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডের মতো বিশ্ব তারকারা। তবে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে এসেছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা।

৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক গোলশূন্য ড্রয়ের অন্যতম নায়ক। পুরো ম্যাচে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দেন তিনি। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সই দলকে এনে দেয় মূল্যবান এক পয়েন্ট।

রক্ষণভাগে সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন কেপ ভার্দের রবের্তো লোপেস, অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউটার, পানামার আমির মুরিলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টনি রবিনসন। শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে ১১টি ক্লিয়ারেন্স করে নজর কাড়েন লোপেস। অন্যদিকে তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সাউটার।

মিডফিল্ডে জায়গা করে নিয়েছেন মরক্কোর তরুণ প্রতিভা আইওব বোউদ্দি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টন ম্যাককেনি। ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কোর ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাত্র ১৮ বছর বয়সী বোউদ্দি। ম্যাচে তার পাস সফলতার হারও ছিল চোখে পড়ার মতো। ৬৬টি পাসের মধ্যে ৬০টি সফল করেন তিনি। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ম্যাককেনি।

আক্রমণভাগে ছিলেন প্রথম রাউন্ডের সবচেয়ে আলোচিত তিন তারকা লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ড। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে বড় জয় এনে দেন মেসি। হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ডেও ভাগ বসান মেসি।  অন্যদিকে নরওয়ের জার্সিতে বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন হালান্ড।

ফ্রান্সের হয়ে সেনেগালের বিপক্ষে দুটি গোল করেন এমবাপ্পে। তার জোড়া গোলে জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনেও উঠে যান এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

সেরা একাদশে জায়গা পাওয়া আরেক চমকপ্রদ নাম আইভরি কোস্টের ইয়ান দিওমানদে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে পাঁচটি গোলের সুযোগ তৈরি করে প্রথম রাউন্ডের অন্যতম সৃজনশীল ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই তরুণ উইঙ্গার।

বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড শেষে প্রকাশিত এই সেরা একাদশে অভিজ্ঞতা, তারকাখ্যাতি এবং নতুন প্রতিভার দারুণ সমন্বয় দেখা গেছে। যা টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্যও বাড়িয়ে দিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ।

 

পি/ডি 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন