বরফ গলছে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কে, সংলাপের টেবিলে দুই পরাশক্তি
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন গতি পেয়েছে। সব অনিশ্চয়তা ও জটিলতা কাটিয়ে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তি নিয়ে মুখোমুখি আলোচনায় বসতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
শনিবার (২০ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার পথ অনেকটাই সহজ করেছে। এর আগে দুই পক্ষের তীব্র উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং তেল সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার আলোচনাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছিল। সাম্প্রতিক এই সমঝোতা সেই অচলাবস্থা কাটাতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে লেবাননে ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার নিলে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ফলে দুই পক্ষের বৈঠক ঘিরে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। এর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার (২০ জুন) সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ পর্যায়ের এই কূটনৈতিক উপস্থিতি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে প্রযুক্তিগত ও টেকসই আলোচনা শুরুর গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে এই সফর নিয়ে হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন সময় বিকেল চারটায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহযোগিতায় এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে সক্ষম হয়েছে। হিজবুল্লাহর দুইটি সূত্র এবং ইসরাইলের এক শীর্ষ কর্মকর্তাও রয়টার্সকে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেন, হিজবুল্লাহ হামলা না চালালে ইসরাইলও সামরিক অভিযান চালাবে না।
তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী দখলকৃত এলাকা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
অন্যদিকে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রথম ঘণ্টায় ইসরাইল অন্তত এক ডজন বিমান হামলা চালায়। তবে বিকেল পাঁচটার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর ঠিক আগের ইসরাইলি হামলায় ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হন। একই সময়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, সর্বশেষ অভিযানে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছে।
এসি//