আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসেই খামেনির জানাজা, কী বার্তা দিচ্ছে তেহরান?

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানের সময় নির্বাচনকে শিয়া সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত প্রতীকী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি শুধু একজন নেতার শেষ বিদায় নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে।

ইউনিভার্সিটি অব তেহরানের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি আল জাজিরাকে বলেন, খামেনির জানাজা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে।

তবে তার মতে, ইরানের কাছে এর মূল তাৎপর্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস নয়।

তিনি বলেন, জানাজাটি মুহাররম মাসের প্রথম ১০ দিনের পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিয়া মুসলমানদের কাছে এই সময়টি তৃতীয় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাত স্মরণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

এসলামির ভাষ্য, ইরান এ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা নিজেদের অনুসারীদের কাছে একটি বার্তা দিতে চায়। তাদের দৃষ্টিতে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের আদর্শিক ধারাবাহিকতার অংশ।

এদিকে, আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি রেসুল সারদার আতাস বলেন, খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান কেবল একজন সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন নয়। এটি প্রায় চার দশক ধরে ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, নীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করা একটি যুগের সমাপ্তিরও প্রতীক।

উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন কর্মসূচি শনিবার (০৪ জুলাই) রাজধানী তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন তিনি। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে আনা হয়। কফিনের ওপর রাখা ছিল তার ব্যবহৃত কালো পাগড়ি। একই স্থানে হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিনও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তার ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট একটি কফিনও রয়েছে। খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে লাখো মানুষ সমবেত হয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন