দেশজুড়ে

কক্সবাজারে উখিয়ার তিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে শিশুসহ নিহত ৮

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার তিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ৩ টায় উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫নং জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে  এ দুর্ঘটনা ঘটে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত প্রায় ১টা ১০ মিনিটে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। পাহাড়ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটির নিচে চাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

সবশেষে রাত প্রায় ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরও একটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা জানান, কক্সবাজারে সারাদিনের টানা বৃষ্টিপাত রাতেও অব্যাহত ছিল। এর ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রথমে ১৫ নম্বর ক্যাম্পে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। অভিযান চলাকালে ১১ নম্বর ক্যাম্পেও পাহাড়ধসের খবর পাওয়া যায়। এরপর সেখানে দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

ওসি জানান, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

 

পি/ডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন