ব্যবসার জন্য আর্জেন্টিনা ও মেসিকে রাখতে চায় ফিফা: মিশরের কোচ
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে তখনও চলছে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের উদযাপন। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু উৎসবের ঠিক উল্টো চিত্র মিশরের ডাগআউটে। সেখানে হতাশার সঙ্গে জমেছে ক্ষোভ, আর সেই ক্ষোভের তীর ছুটেছে সরাসরি ফিফা ও ম্যাচ রেফারির দিকে।
রাউন্ড অব ষোলোর এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তে হার মেনে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিশর। তবে এই ফলকে মাঠের ফুটবলীয় বাস্তবতা হিসেবে মানতে নারাজ দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, পুরো ম্যাচই ছিল পক্ষপাতদুষ্ট এবং ব্যবসায়িক স্বার্থে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হোসাম হাসান বলেন, "যদি ফিফা শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে জেতাতে চেয়ে থাকে, তাহলে অন্য দলগুলোকে এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হলো কেন? নিজেদের ব্যবসার জন্য তারা আর্জেন্টিনা ও মেসিকে রেখে দিতে চায়। পুরো বিশ্ব আজ এই নাটক দেখেছে।"

মিশর কোচের দাবি, মাঠের খেলায় তার দলই ছিল শ্রেষ্ঠ। আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলেছি। কিন্তু মাঠের কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের অদৃশ্য প্রভাব ম্যাচের ফল বদলে দিয়েছে। আজ প্রমাণ হলো, ফুটবল সবসময় ন্যায়সঙ্গত নয়।
হোসাম হাসানের ক্ষোভের বড় কারণ ম্যাচের কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।
তার অভিযোগ, প্রথমার্ধে মোহাম্মদ সালাহকে পেনাল্টি বক্সে ফাউল করা হলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি, এমনকি ভিএআর থেকেও ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর করা একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল করা হয়, যা মিশরীয়দের মতে সম্পূর্ণ বৈধ ছিল।
বিতর্ক আরও বাড়ে ইনজুরি সময়ে। এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের ঠিক আগে মাঝমাঠে মিশরের এক খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরেন আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। কিন্তু সেই ঘটনাও রেফারি কিংবা ভিএআরের নজরে আসেনি বলে অভিযোগ মিশরের।
ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে হোসাম হাসান বলেন, আমরা শুরু থেকেই এই রেফারির নিয়োগের বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা শোনা হয়নি। মাঠে আমরা কোনো ন্যায্য রেফারিং দেখিনি। নিশ্চিত একটি পেনাল্টি দেওয়া হয়নি, বৈধ গোল বাতিল করা হয়েছে, আবার স্পষ্ট ফাউলও উপেক্ষা করা হয়েছে। বাস্তব জীবনে বৈষম্য থাকতে পারে, কিন্তু খেলাধুলায়ও যদি একই চিত্র দেখা যায়, তাহলে সেটা দুঃখজনক।
ম্যাচ শেষে মাঠেই রেফারি লেতেক্সিয়েরের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মিশর কোচ।
পরে সেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি তাকে বলেছি, এটি চরম অন্যায়। আমার মনে হয়েছে তিনি কিছু লুকাতে চাইছেন। কিন্তু সত্য কখনো লুকিয়ে রাখা যায় না।
এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন হোসাম হাসান যে, প্রতিবাদের অংশ হিসেবে চলতি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো বয়কট করার ঘোষণাও দেন তিনি।
"এই টুর্নামেন্ট নিয়ে আমার আর কোনো আগ্রহ নেই। আমি বিশ্বকাপের আর একটি ম্যাচও দেখব না," বলেন তিনি।
তবে বিতর্ক আর হতাশার মাঝেও নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করতে ভোলেননি মিশর কোচ। তার বিশ্বাস, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত হলে বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেই জয় পাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তার দলের।
"আমি ছেলেদের বলেছি, মাঠে যদি সততা ও ন্যায়বিচার থাকে, তাহলে আমরা বিশ্বের যেকোনো বড় দলকে হারাতে পারি। আজকের ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি গর্বিত,"—যোগ করেন হোসাম হাসান।
মাঠের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে আর্জেন্টিনা জিতেছে ঠিকই, কিন্তু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রেফারিং, ভিএআরের ব্যবহার এবং মিশর কোচের বিস্ফোরক অভিযোগ।
সূত্র: রয়টার্স
এসি//