দেশজুড়ে

প্লাবিত হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।   

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা ইউনিয়ন। এসব এলাকায় বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, এবং সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। ফলে নিম্ন আয়ের ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ কর্মহীন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।   

বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা পাঁচ দিন ধরে হাতিয়া-চেয়ারম্যানঘাট নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। যদিও ঝুঁকি নিয়ে সীমিত আকারে সি-ট্রাক ও ট্রলার চলাচল করছে, তবে ফেরি বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও শ্রমিকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ঘাটে আটকে থাকা শত শত ট্রাকে থাকা কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

এদিকে নিঝুম দ্বীপসহ উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল—দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরেও জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। এতে এসব এলাকার বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল গণমাধ্যমকে জানান, জোয়ারের পানিতে উপজেলার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, আর ভারী বর্ষণের কারণে কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

      

পি/ডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন