বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের হাতাহাতি, পাঠদান ব্যাহত
পাবনার ঈশ্বরদীতে ৩৭ নং ছলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষকের হাতাহাতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, ক্ষতির সম্মুখীন শিক্ষাথীরা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
জানা যায়, গত ৫ জুলাই সকালে বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ের বারান্দায় চলছিল প্রাত্যহিক সমাবেশের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী শিক্ষক তানভীর রেজার মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পাঁচ মিনিটের ভিডিও বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।
ভিডিওতে দেখা যায়, সমাবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম, তানভীর রেজা এবং তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক ইসরাত জাহানকে নির্দেশ দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের হাতে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, সহকারী শিক্ষক তানভীর রেজা ও ইসরাত জাহান নিয়মিত দেরিতে বিদ্যালয়ে আসেন, সমাবেশ ও দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করেন না। তারা উপরের রুমে গিয়ে শুয়ে থাকেন। আমি চাবি নেয়ার পরে, তারা তালা ভেঙ্গেছ রুমে ঢুকেছে। আমি একাধিকবার মৌখিকভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও সমাধান না পাওয়ায়, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছি।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক দম্পতি তানভীর রেজা ও ইসরাত জাহান বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই প্রধান শিক্ষক এ ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি তার ব্যক্তিগত কাজও আমাদের দিয়ে করাতে চান। কোনো অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ না করে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা উচিত ছিল। একজন প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে এ ধরনের আচরণ দায়িত্ব জ্ঞানহীন।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ শাহীনা আক্তার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আই/এ