উড়ন্ত বিমানের জানালা ভেঙে বাইরে ছিটকে যাচ্ছিলেন যাত্রী
গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি যাত্রীবাহী বিমানের জানালা মাঝ আকাশে ভেঙে যাওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন এক যাত্রী। স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, জানালা ভেঙে যাওয়ার পর তিনি প্রায় বিমান থেকে বাইরে ছিটকে যাচ্ছিলেন। তবে তার স্ত্রীর তাৎক্ষণিক সাহসিকতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনাটি ঘটে গত ১০ জুলাই গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনগামী রায়ানএয়ারের এফআর-১৮৭৯ ফ্লাইটে। বিমানটি পরিচালনা করছিল রায়ানএয়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মাল্টা এয়ার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিমানের একটি ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। এতে কিছু ধাতব অংশ ছিটকে গিয়ে যাত্রীর পাশের অ্যাক্রিলিক জানালায় আঘাত করলে সেটি ভেঙে যায়। জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেবিনের চাপ কমে যায় এবং ছাদ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেন মাস্ক নেমে আসে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ৬১ বছর বয়সী এক সার্বিয়ান যাত্রী প্রবল বায়ুচাপে নিজের আসন থেকে টেনে জানালার দিকে চলে যান। তার শরীরের একটি অংশ জানালার বাইরে চলে গেলেও স্ত্রী তার দুই পা শক্ত করে ধরে রাখায় তিনি পুরোপুরি বাইরে ছিটকে পড়েননি।
গ্রিসের সরকারি হাসপাতালের কর্মচারীদের সংগঠনের সভাপতি মিখালিস জিয়ান্নাকোস জানান, শক এবং প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে এসে আহত হওয়ায় ওই যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ঘটনাটিকে ‘অল্পের জন্য এড়ানো এক বড় দুর্ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় এক ঘণ্টা আকাশে ছিল এবং প্রায় ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার পর জরুরি ভিত্তিতে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে আসে।
এক বিবৃতিতে রায়ানএয়ার জানায়, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর যাত্রীর পাশের একটি জানালার অংশ সরে যাওয়ায় বিমানটি সতর্কতামূলকভাবে থেসালোনিকিতে ফিরে আসে এবং নিরাপদে অবতরণ করে। পরে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বিকল্প একটি বিমান পাঠানো হয়। আহত এক যাত্রীকে ঘটনাস্থলেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে আলাস্কা এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজের কেবিনের একটি প্যানেল মাঝ আকাশে খুলে যাওয়ার ঘটনায়ও জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল। পরে তদন্তে ওই বিমানের নির্মাণকাজে নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসি//