সিরাজগঞ্জে বায়োমেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগের সূচনা
নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জে কমন ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটি (সিটিএফ) উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এ উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, চিকিৎসা বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না হলে তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। সিরাজগঞ্জে চালু হওয়া এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য জেলার জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষ অতিথি ড. ফাহমিদা খানম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা বর্জ্য নিরাপদভাবে পরিশোধনের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ কমানো এবং পুনর্ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিডোর সমন্বিত উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প সিরাজগঞ্জের জন্য একটি গর্বের অর্জন। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এই ব্যবস্থাকে কার্যকর ও টেকসইভাবে পরিচালনা করা হবে।
জানা যায়, এ উদ্যোগের আওতায় জেলার ৯টি উপজেলার ২৮০টিরও বেশি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে বায়োমেডিকেল বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিশোধন করা হবে। কেন্দ্রটিতে অটোক্লেভ ও ইনসিনারেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৯৫০ টন সংক্রামক চিকিৎসা বর্জ্য নিরাপদে পরিশোধনের পাশাপাশি ১৩০ টনের বেশি বিপজ্জনক প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৮৫০ জনের বেশি স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ৩০ লাখের বেশি মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
আর/আই