ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের কী বলেছিলেন মেসি ও মার্তিনেজ?
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।
ম্যাচের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। সংখ্যাগত এই ঘাটতি তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে শিরোপা ধরে রাখার আশা ভেঙে যায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের।
ফাইনালের পর প্রকাশ্যে এসেছে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুম টানেলের কিছু ভিডিও।
সংবাদমাধ্যম গোলডটকমের প্রকাশিত সেই ফুটেজে দেখা যায়, ম্যাচ শুরুর আগে এবং প্রথমার্ধ শেষে বিরতির সময় সতীর্থদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ।
ফাইনালের আগে রেফারিং নিয়ে নানা বিতর্ক চলছিল। দক্ষিণ আমেরিকার দল হওয়ায় আর্জেন্টিনা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে—এমন অভিযোগও ছিল টুর্নামেন্টজুড়ে। সেই পরিস্থিতিতে বাইরের সব আলোচনা ভুলে শুধু ম্যাচে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান মেসি।
সতীর্থদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা যেন শান্ত থাকি। ছেলেরা, শান্ত থাকো। আমি চাই তোমরা স্থির থাকো। শুধু খেলায় মন দাও। সবকিছু ভুলে যাও, শুধু খেলো। শুধু খেলায় মনোযোগ দাও, সবাই।”
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। বিরতির সময় ড্রেসিংরুম টানেলে আরও দৃঢ় কণ্ঠে সতীর্থদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন গোলরক্ষক দিবু মার্তিনেজ।
অ্যাস্টন ভিলার এই গোলরক্ষক বলেন, “চলো, মন থেকে খেলো। মন দিয়ে খেলতে হলে সামনে এগোতে হবে, পেছনে নয়—সামনে। কাপুরুষরা পেছনের দিকে খেলে, আমরা সামনে এগোব। তিনটি পাস খেলো, তারপর লিওকে খুঁজে বের করো। আমি চাই, পেছন থেকেও আমরা আক্রমণ গড়ে তুলি।”
দিবুর বক্তব্যের পর আবারও সতীর্থদের উদ্দেশে কথা বলেন মেসি।
সবাইকে নিজেদের সামর্থ্য মেলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “চলো ছেলেরা, আসল চেহারা দেখাও। সবসময়ই তো আমাদের সেটা ছিল। এখন কি সেটা দেখাব না? চলো, আমাদের ফুটবল খেলি।”
তবে অধিনায়ক ও গোলরক্ষকের সেই অনুপ্রেরণামূলক কথাও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিতে পারেনি। স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে পুরো ম্যাচেই চাপে ছিল স্কালোনির দল। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে বিশ্বকাপের মুকুট হারাতে হয় আলবিসেলেস্তেদের।
এদিকে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির জন্য এটিই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ৩৩ বছর বয়সী এমিলিয়ানো মার্তিনেজের জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তাই এই ফাইনালের ড্রেসিংরুমে মেসি ও দিবুর অনুপ্রেরণামূলক কথাগুলো হয়তো আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছে দীর্ঘদিন স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে।
এসি//