দাবি না মানলে দিল্লি অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি সিজেপির
দাবি না মানলে দিল্লিতে আরও লাখো মানুষ নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধি আশুতোষ রাঙ্কা। তিনি বলেছেন, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভ ছিল কেবল ‘ট্রেলার’; আন্দোলনের মূল শক্তি এখনো দেখা বাকি।
বুধবার (২২ জুলাই) সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “স্বাধীনতার পর এটিই ভারতের সবচেয়ে বড় আন্দোলন। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, ২০ জুলাই যা হয়েছে, সেটি ছিল শুধু একটি ট্রেলার। সরকার যদি আমাদের দাবিগুলো না মানে, তাহলে দিল্লিতে আরও লাখো মানুষ আসবেন। এবার আমরা চুপ করে বসে থাকব না। সরকারকে দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে, না হলে দেশের তরুণরা তাদের কঠিন জবাব দেবে।”
আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতার অভিযোগও নাকচ করেন সিজেপির এই প্রতিনিধি। তার দাবি, ২০ জুলাইয়ের মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করার পরই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
তিনি বলেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ নয়—এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই করছি। ২০ জুলাইয়ের মিছিলও শান্তিপূর্ণ ছিল। বিশৃঙ্খলা শুরু হয় তখনই, যখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করে। আমরা গত ৩১ দিন ধরে গান্ধী ও আম্বেদকরের আদর্শ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছি।”
আশুতোষ রাঙ্কা আরও বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা গ্রহণ করা যাবে না। এই নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।
তার বক্তব্য, “আমাদের দাবি একেবারে স্পষ্ট। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো এফআইআর বা ভবিষ্যতে কোনো মামলা দায়ের করতে দেওয়া হবে না। এই নিশ্চয়তা ছাড়া আন্দোলন শেষ হবে না।”
মামলার ভয় পান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাঙ্কা বলেন, “আমাদের নেতৃত্বের কেউই এফআইআরে ভয় পায় না। প্রথম দিন থেকেই আমরা ইউএপিএ ও এনএসএর মতো আইনে গ্রেপ্তার হওয়ার জন্যও প্রস্তুত। এই লড়াইয়ের জন্য কারাগারে যাওয়া খুব বড় মূল্য নয়।”
আন্দোলনের প্রতি সব রাজনৈতিক দলের সমর্থনও আহ্বান জানান আশুতোষ রাঙ্কা। তিনি বলেন, “যে কোনো রাজনৈতিক দলের মানুষ, এমনকি বিজেপির নেতাকর্মীরাও যদি এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়াতে চান, আমরা তাদের স্বাগত জানাই। এটি একটি বৃহৎ আন্দোলন এবং আমাদের দাবিগুলোও সম্পূর্ণ ন্যায্য।”