সব দাবি মেনে নিয়েছে সরকার
আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা সিজেপির
দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। একই সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব পুলিশি মামলা প্রত্যাহারে সম্মতি দিয়েছে ভারত সরকার।
শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ও জেপি নাড্ডা এবং সিজেপির মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, যা ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে। এরপর বাকি দাবিগুলোর মধ্যে ছিল মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট প্রশ্নফাঁস–সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা।
সংবাদ সম্মেলনে জেপি নাড্ডা জানান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআরের কপি সিজেপির কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এসব মামলায় আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নফাঁস–সংক্রান্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে সিজেপি সরকারের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এ বিষয়ে নাড্ডা বলেন, সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
সিজেপি এক বিবৃতিতে জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সব দাবি নীতিগতভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে। ফলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকার যেসব বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে বলে সিজেপি জানিয়েছে, সেগুলো হলো—
নিট প্রশ্নফাঁস–সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ প্রদান।
কেন্দ্রীয় সরকার ও এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলোতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া।
সিজেপির পাঁচ দফা পরীক্ষা সংস্কার প্রস্তাব বিবেচনা করা এবং এ বিষয়ে সংগঠনটির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সারা ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে পুনঃপরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় আন্দোলন আরও তীব্র হয়।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। পরে সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সিজেপি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
এমএ//