অপরাধ

কাফরুলে বিএনপি নেতা হত্যা, রহস্য উন্মোচন করলো পুলিশ

রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যায় ২৫ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করেন কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ। এ ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. নাহিদ হাসান (২১), মো. শাফিন আহমেদ (২২), মো. জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মো. আলী হোসেন (৪৫), মো. জিহাদ মোল্লা (৩০), মো. মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও মো. আবির হাওলাদার (২৫)।

সোমবার (২৭ জুলাই) এক ব্রিফিংয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মূলত এই এলাকায় ময়লার টেন্ডার ও ফুটপাতের দখল নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে এক পর্যায়ে সিএনজি হাফিজ যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার নিজ জেলা মাগুরার শালিখা থানাধীন আড়পাড়া থেকে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকায় পেশাদার খুনি ভাড়াটিয়া বাহিনী ভাড়া করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করেন।  এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল হাফিজের গ্যারেজে নিয়ে আসেন। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে গুলি বের হলে সেদিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। পরে অভিযুক্তরা লক্ষ্যব্যক্তি হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান।

পরবর্তীতে ২২ জুলাই সিএনজি হাফিজের নির্দেশে তারা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে ওঠেন। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হন। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে দেন। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেন। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করেন।

ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানকালে অপরিচিত কয়েকজনকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশির চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

 

 আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন