জাতীয়

ইরান যুদ্ধের অবসানে সমঝোতার ইঙ্গিত, নতুন হামলা আপাতত স্থগিত: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অবসানে একটি সমঝোতার রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিতে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

রোববার (০২ আগস্ট) মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েট প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতার কাঠামোয় পৌঁছেছে। প্রস্তাবিত এই সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে, সম্পূর্ণ এবং স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক হুমকিরও অবসান ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, “বিশ্বের শান্তি এবং একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের ভবিষ্যতের স্বার্থে আমি পরিকল্পিত হামলা আপাতত বাতিল করতে সম্মত হয়েছি। তবে দ্রুত একটি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ওপরই এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধের অবসানে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে ইসরায়েলও সম্মতি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মাত্র একদিন আগেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। ফলে সর্বশেষ ঘোষণাকে তার আগের অবস্থান থেকে স্পষ্ট পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানো এবং আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা।

পরবর্তীতে জুনে একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন হামলার পর সেই সমঝোতা ভেঙে যায়।

ট্রাম্পের ঘোষণার আগে শনিবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার টেলিফোনে কথা হয়।

জানা যায়,  সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলা নিয়ে সৌদি আরব উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতুতে হামলা হলে তেহরান সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা আলোচনায় উঠে আসে।

যদিও হোয়াইট হাউস দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।

পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

এদিকে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাহরাইন, ইসরাইল, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

সতর্কবার্তায় সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশপথ বন্ধ এবং ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে উল্লেখ করে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন