আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ওমানের মধ্যস্থতায় চুক্তির খসড়া প্রায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, এ সপ্তাহেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতা কার্যকর হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি আবারও সচল হতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বিদ্যমান চাপও কমতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য অন্তত এক পক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিতে হবে। ইরান চাইছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সামরিক অবরোধ তুলে নেওয়া হোক। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, এমন কোনো সমঝোতা গ্রহণযোগ্য নয়, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

এদিকে তেহরানও স্পষ্ট করেছে, যুদ্ধের আগের মতো পুরোপুরি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে হরমুজকে ফিরিয়ে আনা হবে না। তাদের মতে, প্রণালিতে অন্তত আংশিক নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তির খসড়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কোনো পক্ষ আপত্তি না তুললে শিগগিরই একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হতে পারে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার দাবি, ইরান ও ওমানের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে খসড়া চূড়ান্ত করেছেন। এখন সেটি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তাদের ভাষ্য, এটি স্থায়ী সমাধান নয়; বরং জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া, পরে ভেঙে যাওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা। এই চুক্তি কার্যকর হলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে।

আলোচনায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজ ইরান-নিয়ন্ত্রিত রুট ব্যবহার করবে এবং বের হওয়ার সময় ওমান-নিয়ন্ত্রিত পথ অনুসরণ করবে। নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষার বিনিময়ে নির্দিষ্ট ফিও আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এর আগে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে খুব শিগগিরই ঘোষণা আসতে পারে।

তিনি বলেন, “আগামীকাল বা পরের দিনই কিছু হতে পারে। আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি।”

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, আলোচনা জটিল হলেও কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরানের সরকার পরিবর্তন, পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য ঘোষণা করা হলেও সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি। বরং সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় হরমুজ প্রণালি, যেখানে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং জাহাজে হামলার কারণে নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।

বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস একসময় এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। পথটি অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন