বন্যাকবলিত আসামের পাশে সালমান খান, ৫০০ ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য আসাম ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত। গেল ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই বন্যায় লাখো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন বলিউড তারকা সালমান খান।
বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান খানের মানবিক সংগঠন ‘বিয়িং হিউম্যান’ ইতোমধ্যে বন্যাদুর্গতদের জন্য প্রথম দফায় ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় দফায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমেও যুক্ত হয়েছেন সালমান। অভিনেতা রণদীপ হুডার সঙ্গে আলোচনা করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য শত শত অস্থায়ী ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর একটি দল আসামের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম নেপালি খুঁটিতে প্রায় ২২০টি অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করেছে।
সূত্র জানায়, মোট তিন ধাপে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সালমানের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনকে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত অভিনেতা রণদীপ হুডার সঙ্গে যোগাযোগ করেন সালমান খান। রণদীপ তাকে জানান, ‘গ্লোবাল শিখস’-এর প্রায় ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক দুর্গত মানুষের সহায়তায় কাজ করছেন এবং বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং সালমানকে জানান, বাঁশ ও টিন দিয়ে বন্যা-সহনশীল অস্থায়ী ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ হাজার রুপি ব্যয় হবে।
এরপরই ‘বিয়িং হিউম্যান’ এবং ‘গ্লোবাল শিখস’-এর যৌথ উদ্যোগে আসামের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় ৫০০টি ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন সালমান খান।
এদিকে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, বন্যায় বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য সরকার একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রস্তুত করছে। বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও এখনও অনেক মানুষ ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়ে আছেন। তাদের দ্রুত স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
এমএ//