১৫ বছর পর ভ্যানচালক হত্যা মামলার রায় , ৪ আসামির যাবজ্জীবন
সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ভ্যানচালক শাহজাহান আলী হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে নিহতের স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কাজীপুর উপজেলার কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের অহেজ আলীর ছেলে সুরুজ আলী, জসমী শেখের ছেলে হারুন, মেছের মেম্বরের ছেলে শিবলু এবং ফরিদ শেখের ছেলে লাল মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া নিহত শাহজাহান আলীর স্ত্রী শিরিনা খাতুন, শ্বশুর সিরাজ আলী ও শাশুড়ি বানেছা বেগমকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার আসামি আসমা খাতুনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. এনামুল করিম (শাহীন) জানান, মামলায় মোট আটজন আসামি ছিলেন। রায়ে চারজনকে যাবজ্জীবন, তিনজনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড এবং একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বনগ্রাম গ্রামের আরফান আলীর ছেলে শাহজাহান আলীর সঙ্গে কাজীপুরের কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের সিরাজ আলীর মেয়ে শিরিনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর শিরিনাকে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে নিতে গেলেও নানা কারণে তিনি আর শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাননি।
পরবর্তীতে শাহজাহান স্ত্রীকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে শ্বশুর-শাশুড়ির অনুরোধে সেখানেই থেকে যান। ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। ওই সময় হারুন ও শিবলুর শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত নিয়ে শাহজাহানের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর শাহজাহান আলী আর ফিরে আসেননি। পরদিন ১২ নভেম্বর শ্বশুরবাড়ির উঠানে মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।
এ ঘটনায় শাহজাহানের বাবা আরফান আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আটজনকে আসামি করে ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করলেন আদালত।
আই/এ