আইন-বিচার

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার নির্দেশ হাইকোর্টের

সব সরকারি-বেসরকারি  হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর আগে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রিটকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান,  আদালত একইসঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আইনের সংশোধন করে সব ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিধি প্রণয়নেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি জানান, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুসারে বেঁচে থাকার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুর্ঘটনা বা ছিনতাইয়ে কেউ আহত হলে নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয় না। অথচ এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক সরকারের কাছ থেকে রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্যই লাইসেন্স নিয়ে থাকে।

এর আগে ২০১৮ সালে ছিনতাইকারীর হাতে খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ঢাকার সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর আঘাতে আহত হওয়ার পর নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে গেলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ঢামেকে তার মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।

পরে ওই বছর ৫ ফেব্রুয়ারি জীবন রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা জারির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে পৃথক পৃথক রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে আরও ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জিসান হায়দার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কাজী এরশাদুল আলম। এছাড়া সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন