নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে চান সাকিব
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বলেছেন, সরকার তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে তিনি দুই বছরের নির্বাসন থেকে ফিরে আসতে, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে এবং বিদায়ী সিরিজ খেলতে প্রস্তুত।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ খেলা সাকিব ফোনে রয়টার্সকে এ সাক্ষাৎকার দেন।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে জুলাই বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এর আগে তিনি রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, তিনি এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা ডিসেম্বরে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন।
এ বিষয়ে সাকিব বলেছেন, তিনি অবিলম্বে দেশে ফিরতে চান, তবে তা সম্ভব না হলে তিনি শেখ হাসিনার সাথেই ফেরার চেষ্টা করবেন।
সাবেক এ বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার জানান, "অধিনায়ক (শেখ হাসিনা) যা-ই বলুন না কেন, আমরা তা-ই মেনে চলব," তিনি বললেন। "আমার মনে হয় তাঁরাই এ বিষয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন এবং আমাদের দেওয়া নির্দেশাবলি আমরা অনুসরণ করব।"
বুধবার দিল্লিতে হাসিনার পাশে ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর বাংলাদেশে নিজের খালি বাড়িতে হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি আরও বলেছেন, সংবাদ সম্মেলনে তিনি কেবল শান্তি ও বাংলাদেশের অগ্রগতির কথাই বলেছিলেন এবং এ নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই।
সাকিব জানান যে, আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনজীবী মারফত বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা—‘বানোয়াট’ অভিযোগগুলো প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি।
রয়টার্সকে তিনি জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি কথা বলতে আগ্রহী।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্ররা তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেননি।
ক্রিকেটের প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, "আমি অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই খেলছি। আমি ভালো বোধ করছি, খেলাটা এখনো উপভোগ করছি এবং ভালো খেলছিও। তবে... এই মুহূর্তে বয়স আমার অনুকূলে নেই, তাই আমি খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে পারব না।"
২০২৪ সালের শেষের দিকের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে সাকিব আরও জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি দেশে ফেরার জন্য বিমানে উঠেছিলেন। যাত্রাপথে থাকা অবস্থায় বিমানবন্দর থেকেই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন, কিন্তু মাঝপথে তাঁকে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তিনি দুবাই হয়ে নিউ ইয়র্কে ফিরে যান; সেখানে তিনি লং আইল্যান্ডে স্ত্রী ও তিন সন্তানের সঙ্গে বসবাস করেন।
আই/এ