হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভূখণ্ড’ করার ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (১৫ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার নিউইয়র্কে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর শিগগিরই হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে। বিশ্বের তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে তেহরান। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হলেও পরে দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এরপর আবার সংঘাত শুরু হয়। বর্তমানে যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের প্রশংসা করে ট্রাম্প দাবি করেন, এটি অত্যন্ত শক্তিশালী। ট্রাম্পের দাবি, এই পদক্ষেপ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করছে না, বরং হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য দেশের জন্যও তা উপকারী।
অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালীর একটি অংশকে নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমা বলে দাবি করে আসছে। তেহরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি মার্কিন অবরোধেরও বিরোধিতা করেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, কোনো পোস্ট, বিমানবাহী রণতরী কিংবা আদেশের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দখল করা সম্ভব নয়। হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনে ইরান ভীত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর টোল আরোপের বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। গত মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজের ‘অভিভাবক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ ফি নেওয়া হতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের বিধি অনুযায়ী এমন টোল আরোপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচলের অধিকার আন্তর্জাতিক আইনে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরেও বিরোধিতা বাড়ছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন।
এর মধ্যেই মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে চাপ এবং নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে শিগগিরই আরও কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে।
এমএ//