আন্তর্জাতিক

৩৪ বছর পর আল্পসের হিমবাহে মিলল নিখোঁজ দুই পর্বতারোহীর মরদেহ

সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালায় ৩৪ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া দুই বেলজিয়ান পর্বতারোহীর মরদেহের সন্ধান মিলেছে। দীর্ঘ সময় বরফের নিচে চাপা পড়ে থাকার পর হিমবাহের বরফ গলতে শুরু করায় তাদের মরদেহ প্রকাশ্যে আসে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ডের ভালাইস ক্যান্টন পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই দক্ষিণ সুইজারল্যান্ডের ইতালি সীমান্তের কাছে ট্রিফট হিমবাহ এলাকায় এক পথচারী দুটি মরদেহ দেখতে পান। পরে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে সিওনের ভালাইস হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটি ১৯৯২ সালে ওয়েইসমিস এলাকায় নিখোঁজ হওয়া দুই বেলজিয়ান পর্বতারোহীর। নিখোঁজ হওয়ার সময় তাদের বয়স ছিল ৩৯ ও ৪১ বছর।

ভালাইস ক্যান্টন পুলিশ জানিয়েছে, ১৯২৫ সাল থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষণ করে আসছে তারা। এসব নিখোঁজের অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও নদীতে।

পুলিশের মতে, হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে বহু বছর আগে পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজ হওয়া মানুষের দেহাবশেষ এখন একের পর এক বরফের নিচ থেকে বেরিয়ে আসছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিমবাহ গলার গতি বেড়েছে। ফলে কয়েক দশক ধরে বরফের নিচে চাপা পড়ে থাকা পর্বতারোহীদের মরদেহ ও দেহাবশেষ ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। এতে একদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে, অন্যদিকে পৃথিবীর দ্রুত পরিবর্তিত জলবায়ুরও স্পষ্ট প্রমাণ মিলছে।

গত বছর সুইস আল্পসের ওবার গাবেলহর্ন পর্বতের একটি হিমবাহ থেকে ১৯৯৪ সালে নিখোঁজ হওয়া এক সুইস পর্বতারোহীর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের আগস্টে অ্যান্টার্কটিকার কিং জর্জ দ্বীপে গলতে থাকা একটি হিমবাহের কাছে ১৯৫৯ সালে নিখোঁজ হওয়া এক ব্রিটিশ গবেষকের দেহাবশেষ পাওয়া যায়। একই সময়ে পাকিস্তানের একটি হিমবাহ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৯৯৭ সালে নিখোঁজ হওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেরুর একটি বরফঢাকা পর্বত থেকে ২০০২ সালে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার এক বছর আগে সুইস আল্পসের একটি হিমবাহ থেকে ১৯৮৬ সালে নিখোঁজ হওয়া এক জার্মান পর্বতারোহীর দেহাবশেষ পাওয়া যায়।

হিমবাহ গলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের দেহাবশেষ বেরিয়ে আসার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সালে মন্ট ব্ল্যাঙ্কের দক্ষিণ ঢাল থেকে কয়েকজন পর্বতারোহীর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল। ধারণা করা হয়, তারা ১৯৮০ বা ১৯৯০-এর দশকে নিখোঁজ হয়েছিলেন।

একই বছর সুইস আল্পসের একটি হিমবাহ থেকে উদ্ধার হওয়া এক পর্বতারোহীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালে নিখোঁজ হওয়া এক ব্রিটিশ নাগরিক।

এ ছাড়া ওই বছরই সুইজারল্যান্ডের সংকুচিত হয়ে আসা একটি হিমবাহের বরফের নিচ থেকে ১৯৪২ সালে নিখোঁজ হওয়া এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহের বরফ গলে পুরোনো মরদেহ ও দেহাবশেষ বেরিয়ে আসা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ুর একটি উদ্বেগজনক চিত্রও তুলে ধরছে।

সূত্র: ইয়াহু

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন