আন্তর্জাতিক

‘প্রতারণার’ সন্দেহে প্রেমিকাকে কাঁচি দিয়ে হত্যা

অন্য পুরুষের সঙ্গে প্রেমিকা কথা বলছেন- এমন সন্দেহ ছিল প্রেমিকের। সেই সন্দেহ ধীরে ধীরে রূপ নেয় ক্ষোভে, আর শেষ পর্যন্ত তা গড়ায় হত্যাকাণ্ডে। ভারতের আসামে হোটেলের কক্ষে ২৩ বছর বয়সী প্রেমিকাকে ধারালো কাঁচি দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ২২ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাকেও আহত অবস্থায় আটক করে পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে আসামের কামরূপ গ্রামীণ জেলার রাঙ্গিয়া এলাকায়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে অভিজিৎ কিন্ডো নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত তরুণীর নাম মালিনী গুরিয়া। ২৩ বছর বয়সী মালিনী সোনিতপুর জেলার হুগ্রাজুলি এলাকার বাসিন্দা। আর অভিযুক্ত অভিজিৎ উদালগুড়ি জেলার বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, রাঙ্গিয়া রেলস্টেশনের কাছে একটি হোটেলে ছিলেন অভিজিৎ ও মালিনী। রোববার সকালে হোটেলের একটি কক্ষ থেকে মালিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। একই কক্ষ থেকে আহত অবস্থায় অভিজিৎকেও আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিজিৎ জানিয়েছেন, মালিনী তার সঙ্গে প্রতারণা করছেন—এমন সন্দেহ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। মালিনী অন্য পুরুষদের সঙ্গে কথা বলতেন বলেও সন্দেহ ছিল তার।

পুলিশ আরও জানায়, আগের রাতে চেন্নাই থেকে আরও দুই নারীর সঙ্গে রাঙ্গিয়ায় এসেছিলেন মালিনী। তাদের নিতে রাঙ্গিয়া রেলস্টেশনে গিয়েছিলেন অভিজিৎ। পরে মালিনী ও অভিজিৎ একই হোটেলে ওঠেন।

মালিনীর বন্ধুদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, শুরুতে অভিজিৎ নিজের জন্য আলাদা একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তবে গভীর রাতে তিনি মালিনীর কক্ষে গিয়ে সেখানে অবস্থান করেন।

পুলিশের হেফাজতে সাংবাদিকদের অভিজিৎ বলেন, মালিনী তার সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন এবং অন্যদের সঙ্গে কথা বলতেন। মালিনী আসার আগেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

অভিজিৎ কাঁচি দিয়ে মালিনীকে হত্যার কথাও স্বীকার করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, কাঁচি ও একটি টেস্টার দিয়ে মালিনীকে আঘাত করেন তিনি।

রাঙ্গিয়া রেলস্টেশনের এক কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে পেরে ভোরে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত হোটেলে যায় পুলিশের একটি দল। সেখানে অভিজিৎকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, আত্মহত্যার চেষ্টা করার সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান তিনি। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে মালিনীর বন্ধুদের ফোন করে অভিজিৎ জানান, তিনি মালিনীকে হত্যা করেছেন এবং নিজেও আত্মহত্যা করবেন।

ঘটনার পর গুয়াহাটি থেকে একটি ফরেনসিক দল হোটেলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে মালিনীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি জানানো হয়েছে তার পরিবারের সদস্যদেরও।

তবে ঠিক কী কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

সূত্র: এনডিটিভ

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন