দেশজুড়ে

মুক্তিযোদ্ধার বসতভিটায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

পটুয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজাহার আলী হাওলাদারের বসতভিটায় সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। 

গেল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গৃহনির্মাণের কাজ করার সময় ৭৬ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কামাল গাজী, ফারুক গাজী, শামীম ও লিটনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢোকে। প্রথমে তারা নির্মাণকাজে বাধা দেয়। পরে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।

হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে আজাহার আলী ও তার ছোট ছেলে মো. রাকিব হোসেন (২৮) ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেন। এসময় হামলাকারীরা দরজা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করে।

একপর্যায়ে কামাল গাজী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাকিবের মাথায় আঘাত করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর ফারুক গাজীও তার মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন বলে দাবি করা হয়।

ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আজাহার আলী, তার বড় ছেলে আরিফ হোসেন টিটু এবং পুত্রবধূ রোমানা আক্তার সুইটির ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে পরিবারের কয়েকজন সদস্য শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর  ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। এছাড়া আজাহার আলীর বড় ছেলের স্ত্রী রোমানা আক্তার সুইটির গলা থেকে এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, একটি আংটি এবং দুটি স্মার্টফোন নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফারুক গাজী সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নিজেকে যুবদলের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টিও তিনি প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজাহার আলী হাওলাদার বাদী হয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কামাল গাজী, ফারুক গাজী, শামীম ও লিটনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে পটুয়াখালী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য যুদ্ধ করা একজন মুক্তিযোদ্ধার বসতভিটায় হামলা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন