একাদশে আসন পেয়েও যে ভুলে বাতিল হবে আবেদন
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজে ভর্তির জন্য আসন বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চিত না করলে বাতিল হয়ে যাবে তাদের আসন বরাদ্দ ও আবেদন। ফলে কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও সামান্য ভুলে ভর্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন শিক্ষার্থীরা।
প্রথম ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজে আসন পাননি ১৪ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষার্থী। ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের পর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চিত না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন—দুটিই বাতিল হয়ে যাবে।
এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন শিক্ষার্থী। পছন্দের কলেজ নির্ধারণ করে তারা মোট ৫৬ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫টি আবেদন জমা দিয়েছেন। প্রথম ধাপের ফল অনুযায়ী, আবেদনকারীদের প্রায় ৯৮ শতাংশই কোনো না কোনো কলেজে আসন পেয়েছেন।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮৭ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭১ জন। অর্থাৎ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮৪ শতাংশ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজেদের ফলাফল দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের মুঠোফোন নম্বরেও খুদে বার্তার মাধ্যমে ফল জানানো হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর।
আগে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও পরে তা এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় ক্লাস শুরুর তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে। তাই এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। অনলাইনে আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের দিতে হয়েছে ২২০ টাকা।
ভর্তি নিশ্চিত করার সময় শিক্ষার্থীদের বোর্ডকে দিতে হবে মোট ৩৪০ টাকা। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার বা রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা।
তাই প্রথম ধাপে কলেজে আসন পাওয়া শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভর্তি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সময়সীমার মধ্যে ভর্তি নিশ্চিত না করলে আসন বরাদ্দের পাশাপাশি আবেদনও বাতিল হয়ে যেতে পারে।