জাতিসংঘ অধিবেশনে যেতে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে ভিসা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতিসংঘের বৈঠকে অংশ নিতে ইরানের ‘মূল প্রতিনিধিদল’ এবং প্রয়োজনীয় কর্মীদের ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই প্রতিনিধিদলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও থাকছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিল ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সন্ত্রাসবাদের প্রধান রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বিবেচনা করে এবং দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সম্প্রতি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক উৎসগুলো বন্ধের লক্ষ্যেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্কে হওয়ায় সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিদেশি নেতাদের অংশগ্রহণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে থাকা কয়েকটি দেশের নেতাদের ভিসা দেওয়া হয়নি কিংবা ভিসার জন্য আবেদন না করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
গেল বছরও ইরানি কূটনীতিকদের সীমিতসংখ্যক ভিসা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিউইয়র্কে তাদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ছিল। জাতিসংঘে ইরানের মিশনের নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যাতায়াত সীমিত করার পাশাপাশি কস্টকো ও স্যামস ক্লাবের মতো দোকানে কেনাকাটার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এবারও ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে। বিলাসবহুলসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এছাড়া গেল বছরের তুলনায় এবার ইরানের প্রতিনিধিদল ছোট হবে বলেও জানানো হয়েছে।