আইন-বিচার

ঘটনার সময় বাসায় ছিলেন না, দাবি এমপি নজরুলের

নিজের দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যার সময় বাসায় ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা ৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বলেও দাবি করেন জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এই নেতা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকার আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক এজলাস ত্যাগের পর গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

গাজী নজরুল বলেন,   আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না। সে নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছে।

মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি জানি না।

এর আগে শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ঘটনার সময় তারা একই বাসায় অবস্থান করছিলেন। ভিকটিমের আত্মহত্যায় তাদের প্রভাব আছে কিনা তা উদঘাটনসহ আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় সহায়তা করেছেন কি না এসব তথ্য উদঘাটনের জন্য তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে আসামি পক্ষের আইনজীবী বলেন, গাজী নজরুল ৪ বারের সংসদ সদস্য এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। দুরারোগ্য এসব অসুখের চিকিৎসা নিচ্ছেন। এমতাবস্থায় দেশের কোন থানায় তাকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরিবেশ নেই। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই। এসময় জামিনের প্রার্থনা করে তিনি আদালতকে বলেন, উনি পালিয়ে যাওয়ার লোক নন। যেহেতু একটা ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে পুলিশ বিস্তর তদন্ত করতে পারে। তদন্ত সংস্থাকে যেকোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন তিনি। এ পর্যায়ে তার রিমান্ড বাতিল ও জামিন দেওয়া হোক।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন,  মরদেহ উদ্ধারের সময় বেশ কিছু সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সেখানে নিহতের মৃত্যুর কারণ উল্লেখ আছে। এটা আত্মহত্যা নাকি হত্যা এখনও পরিষ্কার না। হত্যার বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নিহতের সঙ্গে পরিচয়ের পর বিয়েতে বাধ্য করার পরিকল্পনা, ন্যাম ভবনে আনা সবকিছুতে একটা পরিকল্পনা ছিল। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এসব উঠে আসবে।

আদালত শুনানি শেষে গাজী নজরুলকে চারদিন ও তার প্রথম স্ত্রীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন