হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদিকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
সৌদি আরবের ওপর ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলা বাড়ার মধ্যে রিয়াদকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্রিটিশ বিমানবাহিনীকে সীমিত সময়ের জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, এই সহায়তা কয়েক সপ্তাহের জন্য দেওয়া হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় তা পর্যালোচনা করা হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ তথ্য জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে ব্রিটিশ বিমানবাহিনী। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি ব্রিটিশ ভয়েজার বিমান এই কাজে ব্যবহার করা হবে। বিমানটি সৌদি যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করবে। তবে এসব অভিযানকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ কার্যক্রম হিসেবে পরিচালনা করা হবে।
ইয়েমেনে হুথি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হুথিরা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সৌদি রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, তবে সেটি আকাশেই প্রতিহত করা হয়।
এর পাশাপাশি বাব এল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগরে সৌদি নৌযান চলাচলে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে হুথিরা। সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও দেশটির তেল স্থাপনাকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের জন্য এ পরিস্থিতি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের ভেতরেও অগ্রসর হয়েছে হুথিরা। তারা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোকা এবং লোহিত সাগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর ফলে বাব এল-মানদেব প্রণালির নৌযান চলাচলের ওপর নজরদারি আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে গোষ্ঠীটি। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ১২ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বলেন, ব্রিটেনের স্বার্থ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তার মতে, সৌদি আরব ইতোমধ্যে হামলার শিকার হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও সরবরাহ ও বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তেল পরিবহনের পথগুলো সচল রাখা জরুরি।
হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ নিশ্চিত করতে তারা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে।
এর আগে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা সামরিক অভিযানের বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে তারা বলেছিলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবার সরাসরি সামরিকভাবে এই সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ দেখায়নি। জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালালেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।
ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সৌদি আরবকে এই সামরিক সহায়তা দেওয়া শুরু হবে। একটি ব্রিটিশ ভয়েজার বিমান সৌদি যুদ্ধবিমানকে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের সময় আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে।
এর আগে সৌদি আরব মিত্র দেশগুলোর কাছে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছিল।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরসহ কয়েকটি দেশের কাছে এ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। হুথি এবং ইরান-সমর্থিত অন্যান্য গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসি//