সার বিতরণে বিশৃঙ্খলা, দুই কৃষি কর্মকর্তাকে বদলি
কুড়িগ্রামে সার বিতরণকে ঘিরে একাধিকবার বিশৃঙ্খলা ও কৃষকদের ভোগান্তির অভিযোগের মধ্যে দুই কৃষি কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার।
আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ঝিনাইদহ জেলার বীজ প্রত্যয়ন অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। তার স্থলে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক করা হয়েছে ঢাকার খামারবাড়ির প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ মো. রওশন কবীরকে।
অন্যদিকে, আব্দুল জব্বারকে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার জায়গায় ভূরুঙ্গামারীতে দায়িত্ব পেয়েছেন আদিতমারীর কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ভূরুঙ্গামারীতে সার বিতরণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গেল ৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের গুনাইয়ের কুটি এলাকায় সার বিতরণে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ওই সময় কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
এরপর ৮ সেপ্টেম্বর ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন আব্দুল জব্বার। মামলায় ১১ জন কৃষকের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দুই কৃষক আট দিন কারাগারে ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আরও অনেক কৃষক বাড়িতে থাকতে পারছেন না।
গুনাইয়ের কুটি এলাকার কৃষক খলিলুর রহমান (৬৫) বলেন, ‘কৃষকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অনেক কৃষক ঘরছাড়া। তারা আতঙ্কে রয়েছেন। মামলা প্রত্যাহার না হলে আমরা ঠিকমতো মাঠে কাজ করতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তাদের বদলি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের মূল সমস্যা হলো, আমরা চাহিদামতো সার পাচ্ছি না। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’
এমএ//