আন্তর্জাতিক

ভারতে মসজিদ ভাঙার হিড়িক

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সড়ক প্রশস্তকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পের আওতায় ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণ নিয়ে চলছে বিতর্ক। এর মধ্যেই মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, তুরস্কের বেসরকারি সংবাদ সংস্থা ইহলাস নিউজ এজেন্সি (আইএইচএলএএস)-এর প্রতিবদনের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।

মসজিদের একটি অংশ ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগের প্রতিবাদে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলিম বাসিন্দা সেখানে অবস্থান নেন। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রশাসন অপসারণের কাজ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।

পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে। কারা পাথর ছুড়েছে, তা শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করছে পুলিশ।

উজ্জয়িনী প্রশাসন বলছে, পুরো শাহী মসজিদ ভাঙা হচ্ছে না। সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় পড়া মসজিদের একটি ছোট অংশই সরানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসক রোশন সিং জানান, মসজিদ কমিটির সম্মতিতেই ওই অংশ অপসারণ করা হচ্ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় পড়া অংশটি পুরো মসজিদ চত্বরের ১০ শতাংশেরও কম। ২০২৮ সালের সিংহস্থ ধর্মীয় সমাবেশকে সামনে রেখে উজ্জয়িনীতে সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সড়কটি ১৫ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, সিংহস্থ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ উজ্জয়িনীতে আসবেন। তাদের চলাচল, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার জন্য সড়ক প্রশস্ত করা প্রয়োজন। তবে স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মসজিদ অক্ষত রেখেও রাস্তার বিপরীত পাশের জমি ব্যবহার করে সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব।

মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এর আগে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্পের আওতায় পড়া অংশ সরাতে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো মসজিদ ভেঙে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা বাড়ে।

এদিকে মসজিদের অংশ অপসারণের বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ এ বিষয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেয়।

আদালত জানায়, উজ্জয়িনী পৌর কর্তৃপক্ষ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা অবশ্য আদালতের সিদ্ধান্তের পরও স্থাপনাটি রক্ষার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি, শাহী মসজিদটি প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। মসজিদের নামাজের কক্ষের একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উঁচু মিনার ও মাজহার চৌক এলাকার কিছু অংশ প্রকল্পের আওতায় পড়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

সংঘর্ষের পর উজ্জয়িনীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মসজিদের চারপাশে ব্যারিকেড বসিয়ে চলাচল সীমিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ—দুই বিষয়কে ঘিরেই এখন উজ্জয়িনীতে বিতর্ক চলছে। প্রশাসন বলছে, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অংশই সরানো হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় মুসলিমদের একাংশ মসজিদ অক্ষত রেখে বিকল্প পথে সড়ক প্রশস্ত করার দাবি জানাচ্ছেন।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন