রোহিঙ্গা নারীকে নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ায় প্যানেল চেয়ারম্যান পদচ্যুত
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে রোহিঙ্গা নারীকে নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদ দেওয়ার অভিযোগে ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলীকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, লিয়াকত আলী ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রোহিঙ্গা নারী মোছা. রোকেয়া বেগমকে নাগরিকত্ব সনদ দেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তার জবাব পর্যালোচনার পর তাকে পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইন জানান, উচ্চ আদালত থেকে লিয়াকত আলীর পদ বহালের বিষয়ে আরও চার মাসের সময় বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির জন্য ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যান রোকেয়া বেগম ও তার স্বামী মো. আনিছ। তাদের জমা দেওয়া কাগজপত্র নিয়ে সন্দেহ হলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
একপর্যায়ে তারা নিজেদের কক্সবাজারের উখিয়ার টেংখালী ক্যাম্প-১২-এর জি-৪ ব্লকের রোহিঙ্গা শরণার্থী বলে পরিচয় দেন। পরে ওই দিনই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ রানা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ রোকেয়া বেগম ও তার স্বামী আনিছকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
আর/আই