জাতীয়

প্রতিটি শিশুর সুস্থ বিকাশে নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

একটি সমৃদ্ধ, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক জাতি গঠনে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন এবং স্নেহ-মমতায় পূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সোমবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (০৬  অক্টোবর) পালন করা হচ্ছে শিশু অধিকার দিবস।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের সুস্থ বিকাশ, আনন্দময় শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা এবং মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের ওপর নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক জাতি গঠনের ভবিষ্যৎ। তাই প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

তিনি বলেন, শিশুর সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং শিশুবান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের কাছেও এসব সেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে আমাদের তৎপর হতে হবে।

শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, স্কুল পর্যায়ে বিভিন্ন খেলায় শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘স্পোর্টস কার্ড’ ও ক্রীড়া ভাতা চালু এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সমন্বিত চর্চার মধ্য দিয়ে শিশুরা জ্ঞান, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে। তাদের মেধা, মনন ও প্রতিভার যথাযথ বিকাশের সুযোগ তৈরি করা গেলে তারাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ শিশু অধিকার দিবসের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী। পাঁচ দশক ধরে সংগীত, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এই একাডেমি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে দেশের প্রতিটি প্রান্তের প্রতিটি শিশুর কাছে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার সুযোগ এবং সম্ভাবনার আলো আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে যাবে।

বাণীর শেষাংশে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, বিশ্বের প্রতিটি শিশুর জীবন নিরাপদ, আনন্দময় ও আলোকিত হওয়াই সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন