আইন-বিচার

তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড, ‘সমাজের প্রতি বার্তা’: পর্যবেক্ষণে বিচারক

২০২২ সালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সায়মন (১৭) নামে এক পোশাক কর্মীর টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের পর তাকে হত্যার অপরাধে তিন জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ রায় ‘সমাজের প্রতি বার্তা’ বলে মন্তব্য করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩ তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় দেন।

পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, "বর্তমান সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। ছিনতাইয়ের পর আঘাত করার ঘটনাও ঘটছে। অনেকের মধ্যে ধারণা জন্মেছে, এসব ঘটনায় বিচার হয় না। সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ মামলা ভিকটিমের বয়স ১৭ বছর আর উপার্জনক্ষম ছিল। সমাজের প্রতি বার্তা দেওয়ার জন্য এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত।"

আদালত হত্যার দায়ে ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আর ছিনতাই করা মোবাইল কেনার দায়ে সুজন নামে একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। সাজাপ্রাপ্ত সুজন বর্তমানে পলাতক আছে।

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা থাকা মেহেদী হাসান বলেন, "স্যার, আমরা পোলাপাইন মানুষ, জীবন শেষ হয়ে গেল। বাঁইচ্যা তো লাভ নাই। পরকালে একটা বিচার আছে।"

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর অফিস থেকে বেতন তুলে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে কেনাকাটা করতে মিরপুর-১ এ যান সায়মন।

কেনাকাটা শেষে রাত ৯ টার দিকে বাসায় ফেরার পথে, অজ্ঞাতনামা তিন ছিনতাইকারীর একজন আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে সায়মনকে বলেন, সে নাকি তার ছোট ভাইকে মেরেছে। ‘কথা আছে’ বলে সায়মান ও রিফাতকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে সায়মনকে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ভেতর নিয়ে যায়। এর আগে রিফাতকে রিকশা থেকে নামিয়ে দেয় ছিনতাইকারীরা।  তিন ছিনতাইকারী চাকু বের করে ভয় দেখিয়ে সায়মনের কাছে যা যা আছে দিয়ে দিতে বলে।

সায়মন মোবাইল ও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তারা। সায়মনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে দারুস সালাম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে দারুস সালাম থানা পুলিশ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে।

পরে সে ইকবাল ও মেহেদী হাসানও ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করে। সায়মনের মোবাইল বিক্রির টাকা ইউসুফের বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সুজনের কাছে সায়মনের মোবাইলটি ২২০০ টাকায় বিক্রি করার কথাও সে স্বীকার করে।

আই/এ

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন