মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদিতে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।
বুধবার (০৮ অক্টোবর) সৌদি আরবের ইংরেজি দৈনিক আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, পাকিস্তানের সেনারা ইতোমধ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের আওতায় সেনা মোতায়েনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন সক্ষমতায় পাকিস্তানি সেনারা কয়েক দশক ধরেই সৌদিতে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি রিয়াদে মক্কা জোটের স্ট্র্যাটেজিক-পলিটিক্যাল ও ডিফেন্স কমিটির বৈঠকের পর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সেনা ও সামরিক সক্ষমতা সরবরাহে সম্মত হয়। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশটির সামনে থাকা বিভিন্ন হুমকি নিয়ে আলোচনা হয়।
এর মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
গেল ৫ অক্টোবর রিয়াদে বৈঠক করেন পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের কর্মকর্তারা। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকির নিন্দা জানান।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তা করতে তুরস্কও মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গেল ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটি সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে গেল বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব আলাদা একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। ওই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল।
এমএ//