মহানবমীতে দেবীর আরাধনা, বিষাদের সুরে বিদায়ের অপেক্ষা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ মহানবমী। পাঁচ দিনের এ উৎসবের চতুর্থ দিনে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে দেবী দুর্গার আরাধনা, পূজা-অর্চনা ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখরিত মণ্ডপগুলোতে একদিকে উৎসবের আনন্দ, অন্যদিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে দেবীর বিদায়ের মুহূর্ত।
মহানবমীর পূজা শেষ হলেই শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষণগণনা। আগামীকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের। তাই আনন্দের আবহের মধ্যেও পূজামণ্ডপগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে বিদায়ের বিষণ্নতা।
মহানবমীর বিশেষ পূজা ও আনুষ্ঠানিকতা
দুর্গোৎসবের নবমী তিথি ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন দেবী দুর্গার উদ্দেশে মহাআরতি, বলিদান ও নবমী হোমের আয়োজন করা হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়েও দেবীর পূজা করা হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি নিবেদন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রসাদ বিতরণের আয়োজন থাকে।
দেবীর আরাধনায় ভক্তরা প্রার্থনা করেন শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, মণ্ডপ পরিদর্শন এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
সন্ধিপূজার বিশেষ মাহাত্ম্য
দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন সন্ধিপূজা। হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিটের মধ্যবর্তী সময়কে সন্ধিক্ষণ বলা হয়। এই বিশেষ সময়ে দেবী চামুণ্ডার আরাধনা করা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, দেবী দুর্গা রুদ্ররূপ ধারণ করে অসুরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মহিষাসুরের পাশাপাশি তার তিন যোদ্ধা চণ্ড, মুণ্ড ও রক্তবীজকে বধ করেন। সেই পৌরাণিক কাহিনির স্মরণেই সন্ধিপূজার আয়োজন করা হয়।
এ পূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ প্রজ্বালন এবং দেবীর চরণে ১০৮টি পদ্মফুল নিবেদনের রীতি রয়েছে। প্রদীপের আলো, মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজার আনুষ্ঠানিকতায় সন্ধিক্ষণের এই আয়োজন দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
বিসর্জনে শেষ হবে পাঁচ দিনের উৎসব
গত শনিবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উৎসব এরপর মহাসপ্তমী ও মহাষ্টমীর নানা আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে আজ মহানবমীতে পৌঁছেছে।
আগামীকাল বিজয়া দশমীতে পূজা-অর্চনা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এই আয়োজন। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মর্ত্যে ভক্তদের মধ্যে আনন্দ ও আশীর্বাদ ছড়িয়ে দিয়ে দেবী দুর্গা ফিরে যাবেন কৈলাশে।
দেবীর আগমনে যে আনন্দধ্বনি আর উৎসবের আবেশে মুখর হয়ে উঠেছিল পূজামণ্ডপগুলো, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সেখানে নেমে আসবে বিদায়ের আবেগ। অপেক্ষা থাকবে আরেকটি বছরের, আবারও দেবীর আগমনকে ঘিরে নতুন করে আনন্দে মেতে ওঠার।
এসি//