রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষার ধাপ শেষ, অপেক্ষা বিদ্যুৎ উৎপাদনের
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ পর্যায়ের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতির পরবর্তী ধাপ ‘সি’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে ইউনিটটি।
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি সম্পর্কে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিটের বি-২ পর্যায়ের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষাও রয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এক বৈঠকে উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া গেলেই পরবর্তী ‘সি’ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর দিকে এগিয়ে যাবে প্রকল্পটি।
জাহেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরবর্তী কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে গেলে পর্যায়ক্রমে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ২৫ অক্টোবর রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, উৎপাদন সক্ষমতার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা নির্ভর করবে পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার অনুমোদন পাওয়ার ওপর।
এসি//