পশ্চিম তীরে ঘরছাড়া শিশু-নারী-বৃদ্ধ, কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর অবরোধ ও উচ্ছেদ অভিযানে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। শিশু, নারী ও বয়স্কদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ তাদের যাওয়ার মতো নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইসা আমরো।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
হেবরনে অবস্থানরত ইসা আমরোর দাবি, ওই গভর্নরেটের প্রায় আট লাখ ফিলিস্তিনি এখন অবরুদ্ধ। শনিবার সকাল থেকে এলাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, শুক্রবার বিকেল থেকেই বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিতে শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। এর ফলে শিশু, নারী ও বয়স্কদেরও ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে।
আমরো বলেন, অনেক পরিবার মাঝরাতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কাপড়চোপড়, এমনকি শিশুদের স্কুলব্যাগও সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না তারা। কোথায় আশ্রয় নেবে, তা না জেনেই আতঙ্কের মধ্যে পথে নামতে হচ্ছে এসব পরিবারকে।
তিনি আরও বলেন, শহরের কেন্দ্রস্থলের চেকপোস্টগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় এক হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার নিজেদের বাড়িতে আটকা পড়েছে। তারা ঘর থেকে বের হতে পারছে না, এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সংগ্রহ করতে পারছে না।
হেবরনে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মনে করেন আমরো। তার দাবি, আসন্ন ইসরাইলি নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে বলে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আমরো বলেন, পশ্চিম তীরকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা চালাতে চাইছে ইসরাইলি সরকার। নেতানিয়াহু ১৯৬৭ সালের পর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আগে কখনো নেওয়া হয়নি—এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আমরোর দাবি, জেরুজালেমের পর পশ্চিম তীরের অন্যতম বড় শহর হেবরনে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা অবৈধভাবে বসবাস করলেও সেখানে এমন কোনো সামরিক অবকাঠামো নেই, যা এ ধরনের অভিযানের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে।
তিনি বলেন, ‘শহরের ভেতরে কারও লুকানোর মতো নিরাপদ জায়গা নেই। ইসরাইলি সেনারা প্রায় প্রতিদিনই গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে। পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বাড়লেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরব থাকতে পারে—এটাই তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বলে জানান আমরো।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, গাজায় যেভাবে ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে, হেবরনেও ইসরাইলি সরকার একই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে।
এমএ//