মুসলিমদের ছাড়া ইসরাইলে সরকার গঠন কঠিন!
ইসরাইলের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি মুসলিম নাগরিকদের ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারছে না কোনো জোটই। বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ও বিরোধী জোট—কেউই সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত জরিপে বলা হয়েছে, ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। তবে নেতানিয়াহুর জোট পেতে পারে ৫০টি আসন। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৫৩টিতে।
এ নির্বাচনে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল—জয়েন্ট লিস্ট ও রাম—যৌথভাবে ১৭টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ হিসাব অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্টে আরব আইনপ্রণেতাদের আসনসংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৭৩ লাখ যোগ্য ভোটারের মধ্যে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ ভোটদানের হার। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটদানের হার বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট।
বিশ্লেষকদের ধারণা, চূড়ান্ত ফল বুথফেরত জরিপের কাছাকাছি থাকলে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কায় পড়তে পারেন নেতানিয়াহু। তবে বিরোধী শিবিরের নেতা আইজেনকোটও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হননি।
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর সরকার গঠনের সমীকরণে ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কোনো জোটই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে ইসরাইলে আবারও নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এসি//