নিউইয়র্ক পুলিশের পোশাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সদস্যদের ইউনিফর্মে যুক্ত হয়েছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও পরিচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাকে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি পুলিশ বাহিনীর ইউনিফর্মে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়াকে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার পরিচয় বহন করে।
সিএসবি নিউজের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সড়কে নিয়মিত টহল, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনের দায়িত্ব পালন করেন এনওয়াইপিডির সদস্যরা। এ বাহিনীর সদস্যদের ইউনিফর্ম ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে কঠোর মান যাচাই ও নির্দিষ্ট শর্ত অনুসরণ করা হয়।
এমন একটি বাহিনীর পোশাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল থাকাকে দেশের পোশাকশিল্পের পেশাদারত্ব ও পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। দেশটিতে সাধারণত আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শার্ট, প্যান্ট, জ্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক রপ্তানি হয়।
তবে সাধারণ বাণিজ্যিক পোশাকের তুলনায় কোনো বিশেষায়িত বাহিনীর ইউনিফর্ম তৈরিতে গুণগত মান ও কারিগরি শর্ত পূরণের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে বিবেচনায় এনওয়াইপিডির পোশাকে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের উপস্থিতি দেশের পোশাকশিল্পের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস করছেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী। তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এনওয়াইপিডিতেও কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যে শহরের নিরাপত্তায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভূমিকা রাখছেন, সেই শহরের পুলিশ সদস্যদের পোশাকে নিজ দেশের নাম দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন প্রবাসীদের অনেকে।
তবে এনওয়াইপিডির ঠিক কোন ধরনের ইউনিফর্মে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের লেবেল রয়েছে কিংবা বাংলাদেশ থেকে কত পরিমাণ পোশাক সরবরাহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষায়িত কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের এ ধরনের সরবরাহ আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে পারে।
এসি//