ইরানের সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে মানুষ হত্যা করছে- ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। জেলেনস্কিকে ‘কনফিউজড ক্লাউন’ বা ‘বিভ্রান্ত ভাঁড়’ আখ্যা দিয়ে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের এই নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের করদাতাদের অর্থ দিয়ে নিজের দুর্নীতিগ্রস্ত জেনারেলদের স্বার্থ রক্ষা করছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি’র প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে আরাঘচি লেখেন, বিশ্ব এখন “কনফিউজড ক্লাউনদের বক্তব্যে ক্লান্ত”, এবং সরাসরি জেলেনস্কির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরানিরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম এবং এ জন্য বিদেশি শক্তির কাছে হাত পাতার প্রয়োজন তাদের নেই।
প্রায় চার বছর ধরে পূর্ণমাত্রার রুশ আগ্রাসনের মুখে থাকা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি গত বৃহস্পতিবার দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে দেয়া ভাষণে বলেন, ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব যদি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে, তাহলে তা হবে ‘প্রতিটি কর্তৃত্ববাদী শাসকের জন্য স্পষ্ট বার্তা’।
জেলেনস্কি বলেন, ‘এই রক্তপাতের পর ইরানে কী হবে? যদি এই সরকার টিকে যায়, তাহলে তা প্রতিটি কর্তৃত্ববাদী শাসককে স্পষ্ট বার্তা দেবে যে মানুষ হত্যা করলে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। মাত্র গত সপ্তাহেই দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে আসছে, ইউক্রেনে ব্যবহারের জন্য ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে। তবে তেহরান বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইরানে নিহতদের বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষ্ক্রিয়তারও কড়া সমালোচনা করেন জেলেনস্কি।
ইংরেজিতে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো রক্তে ডুবে গেছে। বিশ্ব ইরানি জনগণকে যথেষ্ট সহায়তা করেনি, বরং একপাশে দাঁড়িয়ে থেকেছে।’
তিনি বলেন, বড়দিন ও নববর্ষের ছুটি শেষে রাজনীতিকেরা কাজে ফেরার আগেই ‘আয়াতুল্লাহ হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে ফেলেছেন’।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। তবে তারা দাবি করেছে, এই সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদে ঘটানো হয়েছে।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে— ২০ হাজার পর্যন্ত। তাদের মতে, ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত সংখ্যাটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
এসি//