আন্তর্জাতিক

ইরানের বিক্ষোভে নিজের মৃত্যুর খবর টিভিতে দেখলেন ইসরাইলি নারী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আপনি কি কখনো নিজের ছবি টেলিভিশনে দেখেছেন, আর সেটা এমন কোনো খবরের সাথে যুক্ত যেখানেে আপনার মৃত্যুর কথা ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। ইসরাইলের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট নোয়া তসিওনের সঙ্গে এমনটাই ঘটেছে। তিনি নিজের বাসায় বসে সাধারণ টেলিভিশন দেখছিলেন, হঠাৎই নিজের ছবি দেখতে পান ‘ইরানের বিক্ষোভে নিহত ইহুদি’ হিসেবে!

ঘটনাটি ঘটে ইসরায়েলের বেসরকারি চ্যানেল ১২-এ। খবরটি দাবি করেছিল, ইরানের চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে চারজন ইহুদি বংশোদ্ভূত ইরানি নিহত হয়েছেন। আর সেই তালিকায় আকস্মিকভাবে উঠে আসে নোয়ার ছবি।

নোয়া তসিওন তখন চরম হতবাক হয়ে যান। নিজের ঘরে বসে, শুধু টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার পরেও পুরো ঘটনা যেন এক বিস্ময়কর কৌতুকের মতো মনে হয়। মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় খবরটি যাচাই করা তখন সহজ ছিল না। ফলে নোয়া দ্রুত জানতে পারেননি এই মিথ্যে খবরটি আসলে কিভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই প্রতিবেদন প্রচারের পর আরও কয়েকটি ইসরাইলি গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই দাবি ছড়িয়ে দেন। কেউ কেউ নিহত ইহুদিদের সংখ্যা পাঁচ বলেও উল্লেখ করেন। ডানপন্থি ঘরানার কাছাকাছি হিসেবে পরিচিত চ্যানেল ১৪ যাচাই ছাড়াই জানায়, নিহতদের মধ্যে একটি পরিবার ও একজন কিশোর রয়েছে এবং তারা তেহরানের রাস্তায় নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়াই তারা দাবি করে, সারা দেশে ৩৬ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

ভুল সংবাদে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নোয়া তসিওন টিকটকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাকে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ অবস্থায় দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘আমি বাড়িতেই আছি। আধা ঘণ্টার মধ্যে ট্রেনিংয়ে যেতে হবে।’ তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, তার ইরানে কোনো আত্মীয় বা পরিচিত নেই এবং তিনি কখনো সেখানে যাননি।

ভুল প্রতিবেদন প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গণমাধ্যম প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়নি। পরে চ্যানেল ১২ জানায়, ইরানে নিহত ইহুদিদের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেখান থেকেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

নোয়া তসিওনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরাইলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ভুয়া সংবাদ প্রচারের দায়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয় মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের জেরে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন, যা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলে। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই বিক্ষোভকে সহিংসতায় রূপ দিতে ভূমিকা রেখেছে। দেশটির দাবি, দাঙ্গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

 

এসি//

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইসরাইল #ইরান #মৃত্যু