গাজীপুরের শ্রীপুরে বাসা ভাড়া নেয়ার কথা বলে বাড়ির মালিকের পাঁচ বছরের মেয়েকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে অপহৃত শিশুটিকেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রঘুনাথ গ্রামে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী রোমেলা খাতুন (২৯)–কে গ্রেপ্তার করে। একই অভিযানে উদ্ধার করা হয় পাঁচ বছরের শিশু রহিমা খাতুনকে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী (আমান বাংলা মোড়) এলাকায় আব্দুল মালেকের বাড়ি থেকে বাসা ভাড়া নেয়ার অজুহাতে শিশুটিকে নিয়ে যায় রোমেলা খাতুন।
অপহৃত শিশু রহিমা খাতুন ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেকের মেয়ে। আর গ্রেপ্তার হওয়া রোমেলা খাতুন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, বাসা ভাড়া নেয়ার কথা বলে বাড়ির মালিকের মেয়ে রহিমা খাতুনকে অপহরণ করেন রোমেলা খাতুন। পরে শিশুর বাবার কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, মঙ্গলবার রোমেলা খাতুন বাসা ভাড়া নেয়ার কথা বলে বাসায় ঢুকে বাড়ির মালিকের সাথে ভাড়া নিয়ে কথাবার্তা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে মালিকের মেয়েকে বাড়ির পাশের দোকান থেকে চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে বাইরে নিয়ে যায়। পরে শিশুকে নিয়ে না আসলে স্বজনেরা বিভিন্ন জায়গায় নারীকে খুঁজতে থাকে। এর দুই ঘণ্টা পর রোমেলা খাতুন শিশুর বাবা আব্দুল মালেকের মোবাইলে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে শিশুর ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেয়। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে শ্রীপুর থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ওই নারীর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বুধবার ভোরে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রঘুনাথ গ্রাম থেকে রোমেলা খাতুনকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত শিশু রহিমা খাতুনকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শিশুর বাবা অপহরণকারী নারীর বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন মামলা (নং-৫৭) করেছেন। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ধার করা শিশুকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এসি//