অর্থনীতি

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।

এর দুই দিন আগে, ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের এই পদ্ধতিতে মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে নিট রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গেল ১৯ জানুয়ারি মন্তব্য করেছিলেন, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে এবং আইএমএফের ঋণ ছাড় ছাড়াই তা অতিক্রম করা যাবে।

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে। সে সময় রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন)। একই সময়ে ডলারের দর বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়ায় এবং আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, প্রবাসী আয় বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া এবং ধীরে ধীরে আমদানি নীতি শিথিল করার পদক্ষেপ নেয়। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত ডলার কিনতে শুরু করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি কেনা হয়েছে, যার মধ্যে ফেব্রুয়ারিতেই কেনা হয়েছে প্রায় ১৫৩ কোটি ডলার। ধারাবাহিক এই ডলার ক্রয়ের ফলেই রিজার্ভ আবার ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁয়েছে।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ #রিজার্ভ #ডলার